‘বিউটি সার্কাস’ দিয়ে কী জাদু দেখাবেন মাহমুদ দিদার?

রিডার::হাফিজুল ইসলাম হাফিজ

রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯ ০৬:১২:৪০ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
পেতে যাচ্ছে। সম্প্রতি

সার্কাসের মালিক ও জাদু প্রদর্শনীর প্রধান নারী বিউটি আর তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতানুগতিক সিনে গল্পের বাইরের গল্প নিয়ে ‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সম্প্রতি সিনেমাটি  নিয়ে পরিচালক মাহমুদ দিদারের সঙ্গে কথা হয় বাংলা রিডার প্রতিনিধির সঙ্গে।

বিউটি সার্কাস সিনেমার পোস্ট প্রোডাকশনের খবর কী?

পোস্ট প্রোডাকশন চলছে। ফুল কোর্সে চলছে। আমরা কিছু স্পেশাল টাউন, মিউজিক এগুলো নিয়ে প্রিপারেশন নিচ্ছি। এডিটিং এর ফাইনাল টিউনিং চলছে। আশা করছি, আমরা এপ্রিলের মধ্যে রেপাপ করতে পারবো।

পরিচালক মাহমুদ ‍দিদার

বেশ সময় নিয়ে সিনামাটি বানালেন,  সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

আসলে মাত্র তো টিজার বের হলো। টিজারে যে ধরনের রেসপন্স পাওয়া দরকার, কিছু জায়গা থেকে তার থেকেও আমি বেশি পেয়েছি।…… সেটা তো একই সাথে এক ধরনের উত্তেজনার বিষয়। আবার একজন ফিল্ম মেকার হিসেবে, দর্শক যেন এটি দেখে, আনন্দ পায়, ভালো লাগে, এক ধরনের উদ্দীপনা যেন কাজ করে,  সেই দায়িত্বটা কিন্তু বেড়ে গেছে।

সিনেমাটির নাম কেন ‘বিউটি সার্কাস’ কেন?

সিনেমাটি যে ধরনের কন্টেন্ট, যে বিষয়টি ঘিরে আমরা গল্পটি বর্ণনা করছি সেটি আসলে একটি সার্কাসকে কেন্দ্র করে। সার্কাস ঘিরে যে এই গল্প, তাই আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে সার্কাসের নামে এই সিনামাটির নামকরণ হওয়া উচিত। আর ‘বিউটি’ হচ্ছে এই গল্পের মূল চরিত্র। আর এই দুই শব্দের সংযোজনে সিনামাটির নাম বিউটি সার্কাস করা হয়েছে।

প্রথাগত সিনেমা থেকে বিউটি সার্কাসের বিশেষত্ব কী?

বিউটি সার্কাসের বিশেষত্ব বলতে এটি নির্ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে দর্শক এবং সমালোচকদের হাতে। যদিও বাংলাদেশে সেই অর্থে চলচ্চিত্র সমালোচক নেই। তারপরেও যারা আছেন, যারা চলচ্চিত্র নিয়ে একটু হলেও চিন্তা করেন তারা এটি নির্ধারন করবে। তবে আমি এটুকু বলব যে, এখানে বাস্তব জীবন লোকেশন, রিয়াল লাইফ মানুষগুলো নিয়ে, কিছু ফান্টাসাইজ ক্যারেকটার নিয়ে। লড়াই, সংগ্রাম, প্রতিবাদ এগুলো নিয়ে গল্পটি তৈরি। আর আমি মনে করি এ জায়গাটি আলাদা।

নারী দিবস উপলক্ষে পোস্টার উন্মোচনের রহস্য কী ছিল?

একটা উদ্দীপনার জায়গা থেকে আমি বার বার বলেছি এখানে নারীদের ক্ষমতা বা প্রতিরোধের জায়গাটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নারী দিবসকে প্রতীক আকারে ধরে সেটাকে একটা পোস্টারের মাধ্যমে রূপ দিতে চেয়েছি। যেটা গল্পকে প্রতিনিধিত্ব করে। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন পোস্টারটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বিউটি সার্কাসের যে সম্মানের জায়গা সেটি যখন আরেকজন সম্মানিত মানুষ এর সাথে যোগ হয়, তখন সেটি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। সুতরাং নারীদের নিয়ে রচিত যে গল্প সেটি আরও অর্থপূর্ণ করতে এই দিবসে পোস্টার উন্মোচন করা হয়েছে।

সিনেমাটি নির্মাণে যে অর্থ সংকটের কথা শুনেছিলাম সেটি কীভাবে কাটিয়ে উঠলেন?

অর্থ সংকট খুব একটা ম্যাসিভ পার্ট ছিল। বাংলাদেশে সিনেমা নির্মাণে অর্থ সেভাবে পাওয়া যায় না। কিছু স্বল্প পরিসরে বিনিয়োগ, সরকারের কিছু অনুদান, কিন্তু বড় পরিসরে ভাবতে গিয়ে যে অর্থ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা দিন শেষে ডিরেক্টরকে ম্যানেজ করতে হয়েছে। তার জীবণী শক্তি দিয়ে, ঋণ দিয়ে, সবকিছু দিয়ে কাভার করার চেষ্টা করেছি।

 

বাংলাদেশে অধিকাংশ ভালো মানের সিনেমার মানুষেরা একধরনের হতাশায় ভুগছেন, এর একমাত্র কারন কী?

আসলে আমরা যদি আন অফিসিয়ালি কাউন্ট করি, তবে বাংলাদেশে যে আঠারো কোটি বা সতেরো কোটির উপর মানুষ। তবে এ দেশের সিনেমাগুলো কেন যে দেশের মানুষের জন্য তৈরি হয়নি, তার অনেকগুলো কারন রয়েছে। তো আমার কাছে মনে হলো এই যে, বাংলাদেশের সিনেমাগুলো নিজস্ব বর্ননায়, নিজস্ব ধর্মে, নিজস্ব সংলাপে, নিজস্ব পোশাকে, নিজস্ব গল্পে হওয়া উচিত।

তো সেটা খুব একটা বেশি হয়েছে বলে মনে হয় না। যেমন — কমার্শিয়াল সিনামাগুলোর সেই নব্বুইয়ের দশক থেকে অভিযোগ হচ্ছে নকল সিনামা। নকল সিনামা মানে বলিউডকে ফলো করে বানানো সিনেমা। এক সময় ভারতীয় সিনামাগুলো পশ্চিম বাংলা সিনামাগুলোকে নকল করে বানানো হত।

আমাদের এখানে মৌলিক গল্পের ফিল্ম মেকারের ‘কল্পনা’ সম্পাদনা করার প্রবণতা বা চর্চা খুব সীমিত। একটা কারণ হতে পারে যে, কালচারাল হেজিমনির জায়গা। আমার ভাষা যদি শক্তিশালী হয়, আমার সংস্কৃতি যদি খুব শক্তিশালী হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমার চিন্তা-চেতনা উন্নত হবেই।

পাশের দেশ ভারতে যখন আপনি একটি গান দেখবেন, তখন সেখানে ব্যাক স্পেসে পাঁচশ বা এক হাজার বালিকাকে নাচতে দেখবেন। তো সেটা একজন দর্শক হিসেবে আপনার কাছে দাঁড়িয়ে আপনার কাছে হিউজ মনে হবে, ক্যাম্পাস অনেক বড় মনে হবে। ওদের ন্যারেশান ভিজুয়্যাল অনেক শক্ত এবং প্রোক্রিয়েটিভ মনোভাবপূর্ণ। এটা কিন্তু ওদের একটা স্টাইল। ওরা কিন্তু নিজস্ব একটা স্টাইল বা জনরা দাঁড় করিয়ে ফেলেছে।

অনেকাংশে এটা কমার্শিয়াল ইফেক্ট। এটা ওদের শেয়ার বাজার ফিল্মেও ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ভারতীয় সংস্কৃতি, আবার নব্য যে চিন্তক শ্রেণি বড় হয়ে উঠছে, তাদের আবার বাংলিশ প্রীতি এবং এক ধরনের বিদেশ মুখো সংস্কৃতির চর্চা সব কিছু মিলে আমাদের সিনামাটিও সেভাবেই উঠে দাঁড়াচ্ছে ।

নাটক থেকে এসে সিনেমা অঙ্গনটিকে কেমন লাগছে?

নাটক থেকে সিনামার পরিসর অনেক অ-নেক বড়। সিনামার একটা সিন মানে আমার একটা নাটক। ব্যয়ও সেরকম, অনেকটা এক্সপেরিয়েন্স, সময়ও সেরকম। সিনামার কাছে নাটকের তুলোনাই হয় না। এক ধরনের তাচ্ছিল্যেও মতো মনে হবে।

 

 

বিউটি সার্কাস কী বাংলার হারানো দর্শক ফেরাতে সক্ষম হবে?

এটা আসলে বলা মুশকিল। আমি এটা দায় নিয়ে কখনোই বলতে পারব না। আমরা মনে করছি, বাংলাদেশে সতেরো বা আঠারো কোটি মানুষের মধ্যে যদি এক কোটিও দর্শক থাকে, তাহলেও গড়ে ত্রিশ টাকা ধরলে ত্রিশ কোটি টাকা আসে।

আসলে আমরা একটা টিকেট পিছু ঊনপঞ্চাশ বা পঞ্চাশ টাকা পায়। বর্তমানে যে সিনামা হল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে সিনামা গেলে টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভবনাও কম। দর্শক ফিরিয়ে এনে রেঁনেসা তৈরির যে দায় সেটি আমার মনে হয় না যে খুব একটা সহজ কাজ। এটি একটি খুব কঠিন কাজ। নির্মাতারা আসলে এভাবে বলার সাহস রাখে না। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে দর্শকের উপর।

‘বিউটি সার্কাস’ তো মুক্তির অপেক্ষায় আছে — দর্শক এর পরবর্তী আপনার কাছ থেকে নতুন কোন সিনেমা আশা করতে পারে?

বিউটি সার্কাস তো প্রায় শেষ। আমি চাইব, আমাদের এ সিনামাটি দর্শক তাদের ইতিবাচক জায়গা থেকে দেখুক। তারপরও আমি আমার দুটি গল্প নিয়ে আগাচ্ছি। বিউটি সার্কাসের শক্তি, সাহস, ভালোবাসা আমাকে যৌথ শুট করার সুযোগ দিবে।

তাহলে কী আমরা বলব যে, এর সফলতা বা ব্যর্থতা পরবর্তী দুটি গল্পের ভবিষ্যত নির্ধারন করবে?

এর সফলতা কিংবা ব্যর্থতা যেটায় বলি তবে এর ব্যর্থতা মানে শুধু ব্যর্থতা নয়। ব্যর্থতা মানে আমার অনেক শিক্ষা। আমার কাছে এটি এখন একটি প্রতিষ্ঠানের মতো হয়ে গেছে। আমার মনে হয় বিউটি সার্কাস আমার একটি অর্জন। এখানে যে লড়াই, সংগ্রাম, অভাব, অনটন সবকিছুই আমার জন্য শিক্ষা। এটা আমার স্কুলিং, অরিয়েন্টেশন যেটি আমার ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

 

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

শেষ কবে প্রযোজককে ক্ষতির হিসাব দিয়েছেন অক্ষয় কুমার নিজেই হয়তো বলতে পারবেন না। টানা পাঁচ... আরও পড়ুন

উপহার দিয়ে আসছেন

বিশ্বের সর্বচেয়ে বড় বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজান প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেফ বেজোসের... আরও পড়ুন

সিটি নির্বাচনে রাজধানীর গাবতলীতে গণসংযোগের সময়ে হামলার অভিযোগ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নির্বাচন কমিশন... আরও পড়ুন

দিয়ে নির্বাচন কমিশন

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনীকে মাঠে নামাবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল মঙ্গলবার... আরও পড়ুন

বৈঠক শেষে নির্বাচন

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হবে... আরও পড়ুন

প্রকাশ করেছেন মার্কিন

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটা পুনর্র্নিবাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ... আরও পড়ুন

আমীর খসরু

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করে... আরও পড়ুন

ব্যবহার না করে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহনের

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি এলাকার শিল্প কারখানা... আরও পড়ুন

নির্বাচন কমিশন (ইসি)

বিভিন্ন সংগঠনের দাবির মুখে অবশেষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি পরিবর্তে... আরও পড়ুন

আগামী ১ ফেব্রয়ারি

সরস্বতী পূজা এবং ভোট নিয়ে যাতে কোন ধরণের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়-সেটি বিবেচনায় নিয়ে... আরও পড়ুন

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।