শেখ রেহানা

‘বাংলাদেশের বাঙ্গালিরা, আমার বাবাকে মারবে, এটা তো ধারণার বাইরে ছিল’

রিডার::ঢাকা

শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০ ০১:১৭:৩৮ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
বাইরে থেকে মর্নিং ওয়াক

‘সকাল বেলায় আব্বা বাইরে থেকে মর্নিং ওয়াক করে আসতেন। আমাদের ৩২ নম্বরের যে বারান্দাটা আমরা ওখানে, আব্বা ইজি চেয়ারে আর সব মোড়ায়। টোস্ট বিস্কুট চা নিয়ে আমরা সবাই খবরের কাগজ পড়ে যার যার স্কুল-কলেজে যেতাম।

এই জিনিসটা আমরা ওই যে একটা পরিবেশের মধ্যে বড় হওয়া। ওখান থেকে আর বের হইনি। কামাল ভাইয়ের সবচেয়ে প্রিয় ছিলাম আমি। মায়েরও। শেকড়টা আমরা ভুলব না। আমাদের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া। আমি যে একটা গ্রামের মেয়ে সেটি বলতে খুব গর্ববোধ করি।

গণভবনটাও আমাদের অনেক স্মৃতির। আমরা থাকিনি এখানে। আমরা কোনো ভাইবোনই সেখানে থাকতে চাইনি। জানি না থাকলে অন্যদিক থেকে ভালো হতো কী খারাপ হতো। মা থাকতে চাননি ৩২ নম্বরের বাড়ি রেখে। কামাল ভাই থাকবে না। আপা থাকবে না। আমি না। জামাল, রাসেল না। আব্বা বলতেন যে, তোমরা থাকবে না। তাহলে আমি কেন শুধু এখানে থাকব?

আমার দাদার খুব শখ ছিল নাতির বউ দেখবে। কামাল ভাই তখন যুদ্ধ থেকে এলেন। আমরা খুকী আপার ভক্ত ছিলাম। মেঝো

ভাইয়ের রুমে বিশাল একটা ছবি ছিল স্পোর্টসের। ওরা একসঙ্গে প্র্যাকটিস করত। মাকে বললাম। মা বলল, হ্যাঁ, ঘরের বউ খেলবে লোকে কী বলবে। তো মা চুপচাপ। আমরা কয়েক ভাইবোন তাকে বললাম, মা এত ভালো একটা বউ। তুমি যার কাছ থেকেই নাও, এ মেয়ে কিন্তু পাবে না। মা বলল, কামাল কী বলে। কামাল যদি বলে তাহলে আমি রাজি। বললাম, তবে মা। বিয়ের পর কিন্তু খেলতে দিতে হবে। তখন বলতে পারবে না, ঘরের বউ খেলতে পারবে না। বলছে না, বলব না।

বেলজিয়াম-জার্মানি

মাকে বললাম- মা, আপা (জার্মানি) যাবে জয় পুতুলকে নিয়ে কষ্ট হবে। আমি গেলে একটু সাহায্য হবে। মা আব্বাকে বলল, ঠিক আছে ও যাক হাসুর সঙ্গে। ক’দিন পর চলে আসবে। এই আমাদের যাওয়া। ১৪ আগস্ট রাতে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। ব্রাসেলসে এই বয়সে ক্যান্ডল লাইট ডিনার। মেয়েরা সব আমার বয়সী, আমরা খুব হাসাহাসি গল্প। দুলাভাই এসে আমাদের খুব বকলেন। যে কান্না আছে। এত হাসি। বললাম, আপনি ঘুমাতে পারেন না। উনি যত বকে আমরা তত হাসি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মানুষের যে পরিবর্তন। ক্যান্ডল লাইট ডিনার থেকে আমাদের বের করে দেয় এ রকম অবস্থা।

বাবা হত্যার খবর

আপা ভাবছে আমি জানি না। আমি ভাবছি আপা জানে না। জানি তো দু’জনেই। বাংলাদেশে বাঙালিরা আমার বাবাকে মারবে, এটা তো ধারণারও বাইরে ছিল।

৩২ নম্বরে হৈচৈ, একটা পলিটিক্যাল বাড়ি। টুঙ্গিপাড়ায় ওই আমাদের দাদাবাড়ি আর সেখানে ছোট্ট একটা বাসার মধ্যে দুইটি রুম। ওখানে গিয়ে তো দুই বোন একটা কিসের মধ্যে পড়লাম আমরা। কিচ্ছু বুঝি না। কিচ্ছু করি না। কী খাব। কই যাব।

আল্লাহর একটা রহম আমাদের ওপর যে, আমাদের পাগল বানিয়ে রাস্তায় ফেলেনি। আপা কান্নাকাটি করে এই পাশে, আমি ওই পাশে। দুটি বাচ্চা জয়-পুতুলই ছিল আমাদের সান্ত্বনা।

দিল্লীতে

আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম যে, একটা সাইকেলের ওপর চারটা গ্যাস সিলিন্ডার। একটা মোটরসাইকেলের ওপর সামনে একটা বাচ্চা, হাসবেন্ড-ওয়াইফ, আরেকটা বাচ্চা। তারপর ব্রিফকেস একটা। জানালা দিয়ে ওই বসে বসে দেখতাম। আরেকটা কথা কখনও বলিনি। ৪০ বছর হয়ে গেছে, এখন বলা যায়।

দিল্লী থাকাকালীন আমাদের নামও পরিবর্তন করতে হয়েছে। মিস্টার তালুকদার, মিসেস তালুকদার, মিস তালুকদার আশপাশে যেন কেউ না জানে। আমি বলি, এটা কী ব্যাপার। দেশ ছাড়া, বাড়ি ছাড়া, বাপ-মা ছাড়া। আবার নামও বদলাব? দরকার নাই আমি থাকব না এখানে।

কিন্তু তখন উপায় নাই তো। সবসময় রাগ-অভিমান আর হুট করে কোনোকিছু করা যায় না। মানে দিন কাটে না, রাত কাটে না। আমার খোকা চাচা লন্ডন থেকে চিঠি লিখতেন। চিঠি আসতে লাগত এক সপ্তাহ। আমরা দুটি বোন জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম পোস্টম্যান কখন আসবে। চাচার চিঠিগুলো পড়ব।

আপা লিখতেন বসে বসে। আজকে চিনি অতটুকু, বিস্কুট অতটুকু, সুজি অতটুক। ওপর পাশেই আমার লেখা। আল্লাহ তুমি কেন আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছো জানি না। কিন্তু এই খুনিদের ধরব, বিচার করব ইনশাল্লাহ। তারিখ দিয়ে লেখা। তো আপা সেদিন আমাদের দেখালেন। এই দেখো।

মা-আপা

বাংলাদেশের জনগণ যেখানে যে আছে। নির্যাতিত-নিপীড়িত দুঃখী মানুষ। তারা তো বঙ্গবন্ধুকে, তার অভাবটাকে দেখতে পাচ্ছে। আমরা বাবা হিসেবে পাচ্ছি। আমাদের তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে মা চলে যাওয়াতে। আপা (হাসিনা) ইউনিভার্সিটিতে যাবেন, কোন শাড়ি পরবেন- সেটা মা রেডি করে দিত।

এসে খাবার ফাঁকি দিয়ে ঘুম। আমি শুধু চিন্তা করি, মাকে যদি বলতে পারতাম যে, মা তোমার হাসু এখন আর আলসেখানায় থাকে না। মাকে না বলা পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই। এখন আমার মনে হয় দৌড় দিয়ে যদি বনানীতে গিয়ে মাকে একটা চিঠি লিখে পাঠাতে পারতাম বা আব্বাকে পাঠাতে পারতাম। এগুলো খুব অনুভব করি।

 

(হাসিনা : এ ডটার’স টেল- তথ্যচিত্র থেকে সংকলিত)

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে দেশটির আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডেমোক্রেটের জো বাইডেনের কঠোর সমালোচনা... আরও পড়ুন

জো বাইডেনের কঠোর সমালোচনা

হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সংগঠনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে হেফাজতের শীর্ষ... আরও পড়ুন

হেফাজতের শীর্ষ নেতা

যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ইরানের দাবির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট... আরও পড়ুন

নতিস্বীকার করতে বাধ্য হবেই

গেলো বছর চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যখন দেয়া দিয়েছিল তখন থেকেই সেটিকে ‘চীনা ভাইরাস’... আরও পড়ুন

উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ

রাজধানীর গুলশানে নাভানা টাওয়ারে একটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে গ্রাহকসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।... আরও পড়ুন

স্পা সেন্টারে অভিযান

করোনা মহামারীর এই কঠিন সময় বিনামূলে স্পূটনিক-৫ টিকা জাতিসংঘকে দিতে চেয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।... আরও পড়ুন

স্পূটনিক-৫ টিকা জাতিসংঘকে

সৌদি আরবে ফিরে যেতে চাওয়া প্রবাসীরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে আছেন। সৌদি ফ্লাইটের দাবিতে আজ বুধবার... আরও পড়ুন

সৌদি আরবে ফিরে যেতে চাওয়া

মাদক ব্যবহারের অভিযোগে বি-টাউন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে ডেকে পাঠাতে পারে ভারতের নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)।... আরও পড়ুন

দীপিকা পাড়ুকোনকে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে প্রচারনা চলছে। একে অপরকে যুক্তি... আরও পড়ুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্রী।... আরও পড়ুন

সাবেক ভিপি নুরুল হক

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Recommended for you

সকালে ঘুম থেকে উঠে

ঘুম থেকে উঠে শুনি বাবা-মা কেউ আর বেঁচে নেই:শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতিমদের উদ্দেশে বলেছেন -- তোমরা যারা এতিম, তাদের ব্যথা আমরা বুঝি। আমিও একদিন কোন এক সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি আমার বাবা-মা-ভাইসহ কেউ নেই। সে কারণে আমরা... আরও পড়ুন

দশকের বেশি সময় ধরে ভারতে পালিয়ে

দুই দশক ভারতে লুকিয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর এই খুনি

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী ক্যাপ্টেন(বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে ভারতে পালিয়ে ছিলেন। গতকাল সোমবার রাত ৩টা দিকে রাতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে... আরও পড়ুন