প্রাচ্যের অক্সফোর্ড-৩

রিডার::ফাহাম আবদুস সালাম

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৪২:০২ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
এক্সপার্টিজ জিনিসটা কী

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একজন এক্সপার্ট। তাকে এক্সপার্ট হয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে হবে। উল্টোটা না।

বেশীরভাগ মানুষ দেখেছি এক্সপার্টিজ জিনিসটা কী বোঝে না। অনেকেই মোটামুটি মনে করেন যে টেক্সট বুক সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান থাকলে একজনকে এক্সপার্ট বলা যায়। এটা ফান্ডামেন্টালি একটা ভুল ধারণা। যারা লাইফ সায়েন্স পড়েছেন তাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন লাইফ সায়েন্সের সবচেয়ে কঠিন বিষয় কী? সম্ভবত তারা উত্তর দেবে হয় ইমিউনোলজি অথবা সেল বায়োলজি। কারণ হোলো আপনি এই বিষয়গুলোর টপিকগুলো টেক্সট বইয়ে পড়েন আলাদা আলাদা ভাবে কিন্তু আপনার শরীরে যখন জীবাণু আক্রমণ করে – আপনার শরীরের এডাপ্টিভ ইমিউনিটি, হিউমোরাল ইমিউনিটির কাছে দরখাস্ত লেখে উত্তরের আশায় থাকে না। সবাই একসাথে কাজ করে। ইমিউনোলজি কিংবা সেল বায়োলজি আপনি তখনই কার্যকরভাবে বুঝবেন যখন একটা বডি অফ নলেজ আপনার আয়ত্তে। এই ইন্টারপ্লে শুধুমাত্র টেক্সটবুক পড়ে আপনি আয়ত্ত করতে পারবেন না। একেকটা ইনফরমেশন আপনি একেক জায়গায় পাবেন – দূর-দূরান্তে। সেগুলোকে একাট্টা করা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরণের স্কীল। একটা উদাহরণ দেই।

যিনি ফ্যাশন ডিজাইনিং পড়ছেন তিনি খুব ভালো ভাবে জানেন মেয়েদের জামার বোতাম – ছেলেদের শার্টের বোতামের উল্টা দিকে, মানে বাম দিকে হয়। কিন্তু কেন সেটা হয় – আপনি টেইলারিং এর টেক্সট বইয়ে পাবেন না; পাবেন কোনো অবসকিউর ইতিহাসের বইতে – যে বোতামের উদ্ভব হয় মধ্যযুগে য়োরোপে। প্রথম দিকে বোতাম বানানো হোতো মাদার অফ পার্ল থেকে। বুঝতেই পারছেন, মাদার অফ পার্লের বোতাম শুধু বড়োলোক মেয়েদের জন্যেই বরাদ্দ ছিলো। এখন মধ্যযুগের বড়লোক মেয়েরা তো নিজের কাপড় নিজে পরতো না – কাজের মেয়ে পরিয়ে দিতো। কাজের মেয়ে যেহেতু ডানহাতি – তার সুবিধার জন্য কাপড়ের বামদিকে বোতাম। যে ড্রেসটা পরছে – তার কথা মাথায় রেখে মেয়েদের কাপরের বোতাম বামদিকে রাখা হয় নি – রাখা হয়েছে কাজের মেয়ের সুবিধার জন্য।

 

 

কিন্তু সেই যে চোথা মারা গাণ্ডুরা মেয়েদের কাপড়ের বামদিকে বোতাম দেয়া শুরু করলো – আজো দিয়ে যাচ্ছে। মেয়েদের কাপরের ডিজাইনারদের মাথায় এই বুদ্ধিটুকু গত আটশ বছরে সান্ধায় নাই যে বেশিরভাগ মেয়ে (এবং ছেলে) ডানহাতি এবং প্রায় সব মেয়েই নিজের কাপর নিজে পরে। যেহেতু বেশীরভাগ মানুষ ডানহাতি – তাদের কথা চিন্তা করে ছেলে ও মেয়ে – উভয়েরই জামার বোতাম ডান দিকে থাকাটাই সুবিধাজনক।

এক্সপার্টিজ হোলো কমপ্লিটলি ভিন্ন এরিয়ার ইনফর্মেশনকে এক জায়গায় এনে কাজে লাগানোর সক্ষমতা।

আমি ভাগ্যবান যে আমি ক্রিস প্যারিশের সাথে কাজ করেছি। ইমিউনোজিতে এই মানুষটার জ্ঞান যে কোন পর্যায়ের সেটা বলে বোঝনো সম্ভব না। আরেকটা ছোট্ট উদাহরণ: যেকোনো ইমিউনোলজির বই পড়লেই আপনি এক ঘন্টার মধ্যে এন্টিজেন প্রেজেন্টেশন জিনিশটা কী, কীভাবে হয় – এ সম্বন্ধে মোটামুটি একটা জ্ঞান পাবেন। এটা এক্সপার্টিজ না।

এন্টিজেন প্রেজেন্টেশন আবিষ্কার করে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল য়ুনিভার্সিটির দুজন লেজেন্ড নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। ক্রিস প্যারিশই শুধু আমাকে বোঝাতে পেরেছিলেন যে সময় এই দুই চ্যাংড়া ছেলে এন্টিজেন প্রেজেন্টেশন আবিষ্কার করেছিলেন, সে সময়ে (১৯৭৪/৭৫ এ) বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে কী জানতেন, ডমিনেন্ট প্যারাডাইম কী ছিলো এবং যে যে পরীক্ষা থেকে যে কনক্লুশানে ডোয়ারটি ও জিঙ্কারনেগেল পৌঁছেছিলেন কেন অন্য বিজ্ঞানীরা সেই একই কনক্লুশানে পৌছাতেন না।

এই জিনিশগুলা আপনি পৃথিবীর কোনো বইয়ে পাবেন না। সারা জীবন ধরে পড়াশোনা ও রিসার্চ করবেন। বিভিন্ন সময়ে দূর দূরান্তে যে যে ইনফরমেশন পাবেন, আড্ডা থেকে জানবেন – সেগুলোকে ব্রেনের ছোটো ছোটো শেল্ফে তখনই ঢুকিয়ে রাখবেন। ছোটো ছোটো পাজল থেকে বিগ-পিকচারটা আপনাকে নিজে আঁকতে হবে। যেকোনো বিষয়ে এক্সপার্টিজ আপনাকে এভাবেই অল্প অল্প করে গড়তে হয়। এই কাজটা অন্ধ ভালোবাসা, অফুরন্ত কৌতূহল এবং লেগে থাকার মরণপণ না থাকলে আপনি পারবেন না। সত্যি বলছি; পৃথিবীতে এর চাইতে কঠিন কোনো কাজ আর নেই।

অবশ্যই ক্রিস প্যারিশের মতো এক্সপার্ট পৃথিবীতে বিরল – কিন্তু মোটামুটি এক্সপার্ট হওয়া অসম্ভব কিছু না। এবার দেখি বাংলাদেশের এক্সপার্টরা কেমন হন।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গড়পড়তা জীবন কাহিনী হোলো এরকম (আমাদের সময়ে): ঢাকার বাইরের জেলা শহরের মেধাবী ছেলে অথবা মেয়ে – অদম্য তার স্পৃহা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এসে বেচারার সঙ্গীন অবস্থা। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া চাই আপনাদের কারো যেন এই মানবেতর জীবনে প্রবেশ না করতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ঢুকে সর্বপ্রথম আপনি শেখেন আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে। একটা ঘরে আপনাকে পশুর মতো চাপাচাপি করে থাকতে দেয়া হয়, খাবারও ছিলো পশুর খাবার। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে চার সপ্তার মধ্যে বুঝতে পারবেন – আপনার শিক্ষকদের জন্য এক নিয়ম আর আপনার জন্য আরেক নিয়ম। তো আপনি কী করবেন ?

আপনার প্রথম শিক্ষা হোলো প্রচুর মুখস্থ করতে হবে (কারণ পরীক্ষায় আপনার মুখস্থ বিদ্যাই পরীক্ষিত হবে) এবং ক্লাসে ও হলে – সর্বত্র ক্ষমতাধরদের ম্যানেজ করা শিখতে হবে। আপনি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হবেন – গুটি চালাচালি করে অমুক স্যারের প্রিয়পাত্র হবেন (আমাদের সময় য়া মুজিব, য়া মুজিব করতে হতো না, এখন সেটাও করতে হবে)। তারপর হঠাৎ একদিন আপনি ক্লাস নেয়া শুরু করবেন।

আপনার যারা ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছেন এবং হচ্ছেন – আমি দুঃখিত – দুয়েকজনকে বাদ দিলে আপনারা এখনো চিন্তা করাই শেখেন নি – এটাই বাস্তবতা। বড়জোড় আপনারা টেক্সটবুকটা মুখস্ত করেছেন এবং আপনি দ্রুত লিখতে পারেন। আপনার টেনাসিটির জন্যে আপনাকে আমার অভিবাদন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার কোনো যোগ্যতাই এখনো আপনার হয় নি। কেননা আপনার এখনো কোনো বিষয়ে কোনো ধরনের এক্সপারটিজ নাই। ভবিষ্যতে এক্সপার্ট হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিলো – সেটাও ধ্বংস হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার কারণে।

কেননা আপনি পিএইচডি করতে যাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক – এই দোহাই দিয়ে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমি যা দেখেছি সাধারণ একজন বাংলাদেশী ছাত্রের চাইতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিম্ন মানের পিএইচডি করেন (অবশ্যই ব্যতিক্রম আছে)। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষিকা দেখেছি – তারা যে একটা ওয়েস্টার্ন য়ুনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন এবং ইংরেজিতে একটা থীসিস লিখেছেন – তার ন্যূনতম চিহ্ন নাই। কারণ তারা ওই য়ুনিভার্সিটিতে গিয়ে তিন বছর ডর্ম থেকে ল্যাব আর ল্যাব থেকে ডর্ম করেছেন। তাদের কোনো বন্ধু হয় নাই, কারো সাথে মারপিট করে নাই, কোনো ছাত্র সুপারভাইজ করে নাই, কারো সাথে প্রেম করে নাই, দেশটা অচীন রয়ে গেছে – কিন্তু মাঝখান দিয়ে তার পিএইচডি হয়ে গেছে – সম্ভবত এমন একজন সুপারভাইজারের সাথে যিনি এই ছাত্র বিদায় হলেই খুশী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকটি খুব ভালোমতো জানেন – দেশে গিয়ে তিনি প্রোফেসর হবেন তার য়া মুজিবু জিকিরের জোড়ে – রিসার্চের জোড়ে না। আপনার যেই তাগড়া শিক্ষক আপনাদের দিনে নয়বার হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন ওই একই শিক্ষককে আমি ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ ও আমলাদের সামনে দেখেছি। এরকম কুৎসিত চামচামি একটা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক করতে পারেন, আপনাদের বিশ্বাস হবে না।

মাইক্রোবায়োলজিতে শুধুমাত্র রফিক স্যার বলে একজন ভদ্রলোক ছিলেন যাকে আমার এক্সপার্ট মন হোতো। তিনি যা পড়াতেন সেটা নিজে বুঝতেন এবং মোস্ট ইম্পোর্ট্যান্টলি – পুরোটা বুঝতেন। শাখাওয়াত স্যার বলে আরেকজন ছিলেন যিনি পরে আমেরিকায় চলে যান। এই ভদ্রলোকও এক্সপার্ট হওয়ার লাইনে ছিলেন – খুবই বুদ্ধিমান মানুষ ছিলেন। আর আরেকজন শিক্ষক ছিলেন মনজুর স্যার যিনি একজন এক্সপার্ট হলেও হতে পারতেন। হয়েছেন কি না বলতে পারবো না কিন্তু তার মধ্যে সম্ভাবনা ছিলো। আমি সত্যিই দুঃখিত – বাকী একজন শিক্ষককেও আমার এক্সপার্ট মনে হয় নি। আরো দুঃখের বিষয় সেই সময়ের বেশীরভাগ শিক্ষকের কোনো ধরণের বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারেকাছেও যাওয়া উচিত ছিলো না।

মজার ব্যাপার হোলো বাংলাদেশে যে মানুষটাকে – একমাত্র যে মানুষটাকে প্রপার সায়েন্টিস্ট ও এক্সপার্ট হওয়ার জন্য অল্প বয়সেই প্রস্তুত মনে হয়েছিলো – এই অসম্ভব মেধাবী মানুষটাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দেয় নি। আমাদের এক বছরের বড় ফার্মেসির আলীমুজ্জামান (ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট) পরে ডিপ্লোম্যাট হয়েছিলেন। কী করুণ এই অপচয়।

বাই দ্যা ওয়ে – আমাদের সময়ে ফার্মেসির একজন শিক্ষক ছিলেন যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছিলেন। নামটা মনে আসছে না – টাক মাথা – প্রচণ্ড আওয়ামী ছিলেন। এই ভদ্রলোক সম্বন্ধে আমি প্রচুর বাজে কথা শুনেছি। কিন্তু তাকে আমার খুব ভালো শিক্ষক মনে হয়েছিলো। ব্রিলিয়ান্ট ম্যান। তিনি আমার মনোযোগ ধরে রাখতে পারতেন।

একটা ১৮ বছরের ছেলে কিংবা মেয়ের মনে লাস্টিং ইম্প্যাক্ট ফেলতে হলে আপনার কিছুটা হলেও ক্যারিজমা লাগবে। আমাদের বেশীরভাগ শিক্ষকের অত্যন্ত টক্সিক পার্সোনালিটি ছিলো। ছেলেমেয়েদের অপমান করতে অনেকেই খুবই ভালোবাসতো। একটা ফেইক পান্ডিত্যে তাদের প্রবল আস্থা ছিলো। একজনও কাওকে ইন্সপায়ার করতে পারতো না এই ফেইক পান্ডিত্যের কারণে। কারণ চাকরি তাদের মাথায় বিশাল এক ওজন হয়ে থাকতো।

একজনও – লিট্ৰেলি একজনও ‘ডুড’ ছিলো না। ছোটোবেলা থেকে আমার চেয়ে বড় কোনো মানুষ, তা সে যতো বড়োই হোক, যতো বিখ্যাতই হোক, যতো ক্ষমতাধরই হোক – আমার ভয় লাগতো না। আই জাস্ট নেভার ফেল্ট ইট। আমার জন্ম হয়েছে এই তারটা ছাড়া – মানুষকে যে ভয় পেতে হয়- তার পোজিশানের জন্য সম্ভ্রম করতে হয় – এই বোধটাই আমার কোনোদিন ছিলো না। সবাইকেই আমার সমকক্ষ মনে হয়, নিজের মতো মনে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে আমি কখনোই কোনো শিক্ষককে সাধারণ একজন মানুষ হিসাবে ট্রীট করতে পারতাম না।

আমি আমার মেয়ের বান্ধবী থেকে আমার বান্ধবী হয়ে মায়ের বান্ধবী – যে কোনো মেয়েকে সুন্দর লাগলে সরাসরি বলি আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে (এবং আমার স্ত্রীকেও)। একটা ছেলেকেও এই একই কথা আমি পঞ্চাশ জন লোকের সামনেই বলতে পারি। এটা খুবই সাধারণ একটা ডিসেন্সি, খুব বুঝে বলি না। একটা ছেলে কিংবা মেয়ে এতো কষ্ট করে সেজেছে এবং তাকে আমার আসলেও সুন্দর লাগছে – পাওয়ার রিলেশানশীপে আমি যদি তার উপরে না থাকি আমি তাকে ভদ্রতাবশতঃ এই কমপ্লিমেন্টটা দিতেই পারি। এখন আমি যদি আমার কোনো মেয়ে শিক্ষককে এই একই কথা বলতাম – যে ম্যাডাম এই কামিজটায় আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে – তিনি নির্ঘাৎ মামলা করে বসতেন – এট লীস্ট পরের দিন পুরা ডিপার্টমেন্ট রাষ্ট্র করে বেড়াতেন যে ফাহাম আমাকে আপত্তিকর ইঙ্গিত করেছে।

এই অদ্ভুত, বদ্ধ পরিবেশ কেন হয়েছিলো ঐখানে, আমি প্রায়ই চিন্তা করি। আমার উপসংহার হোলো দে নেভার ফেল্ট ফর আস। তারা শুধু চাকরি করতেন। কোনো ধরনের ভালোবাসা ছিলো না। ভালোবাসা না থাকলে আপনি কোনোদিনও শিক্ষক হতে পারবেন না। শাহীন স্কুলে আমি যখন পড়তাম সেখানে আল্পনা ম্যাডাম বলে একজন শিক্ষিকা ছিলেন। আপনারা যারা শিক্ষক হতে চান তারা ওনার সাথে দেখা করবেন। উনি কেমন বাংলা জানতেন কিংবা পড়াতেন, কেউ মনে রাখে নি। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ওনার যে ওয়ার্মথ, সেটা সবাই মনে রেখেছে। আমি সরাসরি কোনোদিন তার ক্লাস করি নি কিন্তু এখনো আমি তাকে ফোন করে খবরাখবর নেই, যেদিন রিটায়ার করলেন, সেদিন আমি তাকে ফোন করেছিলাম। শী ওয়াজ স্টানিংলি প্রিটি। বুঝতেই পারতেন এইটিজ ও নাইন্টিজে শাহীন স্কুলে এমন কোনো দুষ্টু ছেলে ছিলো না যারা তার সাথে ফাজলামি করে নাই। কিন্তু ম্যাডামের এই ব্যক্তিত্বটা ছিলো যে হাসিমুখে ফাজলামিটা এক পাশে রেখে আপনার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারতেন। তিনি জেনুয়িনলি তার ছাত্রছাত্রীদের ভালো চাইতেন।

এই জিনিসটা আমি স্কুল লেভেলে পেয়েছি কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাই নি। ১৮ বছরের ছেলে ও মেয়েরা স্টুপিড হয় – সিম্পল এজ দ্যাট। আমরা যারা এই বয়সটা পার করেছি তারা জানি। এই বয়সে ইমোশনের ওভারডোজে বিশেষ করে ছেলেরা প্রচুর স্টুপিড কাজ করে। দে আর নট ক্রিমিনালস, জাস্ট স্টুপিড। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অত্যন্ত জরুরী একটা কাজ হোলো তার ছাত্র ও ছাত্রীর ব্যক্তিত্ত্ব যেনো গড়ে ওঠে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। আপনি যদি তাকে স্টুপিড মনে করে এভয়েড করেন, কিংবা ক্রিমিনাল মনে করে রোদ্দুর রায়ের ভাষায় গাড় মারায় ব্যস্ত থাকেন – তার তো ব্যক্তিত্ত্ব হবে না। তাকে আপনার এনগেইজ করতে হবে এডাল্ট হিসাবে এবং সমকক্ষ হিসাবে। তাকে আপনার রেস্পেক্ট দিতে হবে। এই কাজটা আপনি তখনই করতে পারবেন, যখন ঐ ছাত্র কিংবা ছাত্রীটাকে আপনি ভালোবাসতে পারবেন।

বাংলাদেশে ১৮ বছরের ছেলেরা মানসিকভাবে খুবই ভালনারেবল অবস্থায় থাকে। সমাজের নব্বুইটা লোক এই ছেলেটাকে বিবিধ কারণে সন্দেহ করে। আপনি যদি ওই ছেলেটার হয়ে চিন্তা করেন দেখবেন যে এর মতো করুণ অবস্থা আর কিছু হতে পারে না। এডাল্টদের মধ্যে মা-বাবা ছাড়া সবাই তাকে এভোয়েড করে। এখন আপনি যদি তার শিক্ষক হয়ে ওই একই কাজটা করেন – তার মাথায় আপনি ঢুকবেন কীভাবে?

দুৰ্ভাগ্যজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা পাই নি যাকে আমার মনে হয়েছে যে ছাত্রছাত্রীদের তারা জেনুয়িনলি ভালোবাসে, তাদের ভালো চায়। কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম আমাদের সময়ের এক শিক্ষিকা হলের রাজনীতিতে সরাসরি ছাত্রলীগের ভূমিকায় নেমে সাধারণ ছাত্রীদের পেটানোতে সহায়তা করছেন। আমি আমার জীবনে ওনার মতো আনক্যারিজম্যাটিক মহিলা খুব কম দেখেছি। রোকেয়া প্রাচীর চাইতেও আনক্যারিজম্যাটিক। ওনাকে দেখলেই আপনি ডিপ্রেসড হয়ে যাবেন, মনে হবে – আপনি হয়তো গত পরশুদিন মারা গেছেন। অনেস্টলি, তার ওপর ব্যান থাকা উচিত যে কোনো ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন মাইলের মধ্যে ঢুকতে পারবেন না। কিছুদিন আগে শুনে শিউরে উঠলাম যে এই মহিলা নাকি আওয়ামী রাজনীতিতে এতোটাই এগিয়ে গেছেন যে, নেক্সট ভিসি হয়ে যেতে পারেন। সর্বনাশের সাথে রাখী সাওয়ান্তের এরেঞ্জড ম্যারেজ এর চেয়ে কম বিপর্যয়কর হবে।

আমার ধারণা মাইক্রোবায়োলজি ডিপার্টমেন্ট অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের মতোই ছিলো। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের যে টক্সিক পরিবেশ তার থেকে কোনো ছাত্রছাত্রী বা শিক্ষক-শিক্ষিকা মুক্তি পায় নাই। যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার জীবনের দেখা সবচেয়ে বিদ্যাবিমুখ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান।

এর থেকে কি আসলেই কোনো মুক্তি নাই? আগামী সংখ্যায় এই নিয়ে আমার শেষ কথা বলবো।

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

গুঞ্জণটা ছিল আগের থেকে। বি-টাউনের সফলতম পরিচালক রাজকুমার হিরাণি এবার রোমান্সের বাদশাহ শাহরুখ খানের ডুবে... আরও পড়ুন

জার্মানির হানাউয় শহরের দুটি পৃথক সীসাবারে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। জখম হয়েছে আরও... আরও পড়ুন

আগামী চার দিনের মধ্যে গ্রামীণ ফোনকে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিরীক্ষা দাবি নাগাদ পাওনা... আরও পড়ুন

কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক আজন্মা।প্রতি দশকে কোন না কোন কারণে সেই পরিস্থিতির অবনতি হয়।যুদ্ধ... আরও পড়ুন

অবনতি হয়।যুদ্ধ হয়েছেও

অবশেষে হিজাব বা পাগড়ি পরেই মার্কিন বিমানবাহিনীতে চাকরি করার অনুমতি মিলেছে। চলতি মাসে মুসলমান বা... আরও পড়ুন

  সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা... আরও পড়ুন

দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট চেয়ে জামিন আবেদন করেছেন।যুক্তরাজ্যের মতো... আরও পড়ুন

ট্রিটমেন্ট চেয়ে জামিন

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্যারোল বিষয়টি তাঁর পরিবারে সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন  বিএনপির মহাসচিব... আরও পড়ুন

সভাপতি আনোয়ার হোসেইন

ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক তাপস পাল মারা গেছেন।গতকাল সোমবার রাতে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে... আরও পড়ুন

ঘুষের মামলা থেকে অব্যহতি পেলেন সাবেক বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদার করা... আরও পড়ুন

পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Recommended for you

নিয়মিত ফেল করতাম।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা জিনিসটা কী এটা বুঝতে আমার বেশ কয়েক বছর নষ্ট হয়েছিলো। বরাবরই আমি খারাপ ছাত্র ছিলাম। ক্যাডেট কলেজে আমি নিয়মিত ফেল করতাম। আমার মাথায় একটা প্রায় ধর্ম- বিশ্বাস জন্মেছিলো... আরও পড়ুন