নাটাই সুতো(১)

শিহাব জামান

শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০৯:১০:৫১ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
দিকে গাউসিয়ার রাস্তা

প্রতীকি ছবি

যখনকার কথা বলছি,  তখন টিডিকে এর একটা ক্যাসেট একশ বিশ টাকায় কিনতে হতো।যদি আপনি পছন্দের গান রেকর্ড করিয়ে নিতে চান। প্রথম দিকে গাউসিয়ার রাস্তা ধরে  মাথার দিকে সঙ্গিতা নামের একটা দোকানে রেকর্ডিং করাতাম ।পরে রেনবো তে এসে ঠেকলাম।একটু বেশি টাকা নিতো কিন্তু সাউন্ড কোয়ালিটি আর ওদের গানের কালেকশন একটু বেশি ছিল।

বিশেষ করে ইংরেজি গানের কালেকশন।বাবা আদম জমানার কত রকমের গানের তালিকা, কোথা থেকে যেন আমি খুঁজে পেতাম।অধিকাংশ তারান্নুম আমাকে খুঁজে দিতো।

স্কুলের টিফিন তো মা কিংবা চাচি বানিয়ে দিতেন, তাই হাতে টাকা থাকতো না।‘পকেট মানি’ বলে কোন ব্যাপার আছে তাও জানতাম না।হাতে টাকা বলতে মায়ের ব্যাগ থেকে দুই কি পাঁচ টাকা সরিয়ে নেওয়া নয়তো ঈদের সালামি।অথবা নানার বাড়ি থেকে কেউ এলে পরে সেই বকশিশ।

নব্বই দশকের গোঁড়ার কথা বলছি। তখন আমি সবে ক্লাস সেভেনে পড়ি।পাড়ার একটা স্কুলে।

আজকের দিনে ছোট ছোট পরিবারে থাকার অভ্যাস আমাদের তখন ছিল না।সেকালে আমরা থাকতাম সবাই মিলে।তিন চাচার আর ছোট ফুপুর পরিবার নিয়ে।

দেশ বিভাগের পরে দাদাজান ঢাকায় আসলেন বাবাদের নিয়ে।মানে আমার তিন চাচা আর দুই ফুপুকে নিয়ে।সঙ্গে বড় শালার পরিবার।চাকরি সূত্রে প্রথমে আজিমপুর কলোণিতে সরকারি কোয়াটার পেয়েছিলেন। পরে এই ধানমন্ডিতে একচিলতে জমি পেলেন।সেখানে বাড়ি গড়লেন।সেই বাড়িতে আমরা থাকি।

বড় ফুপুতো বিয়ের পর ফুপার বাড়িতে চলে গেলেন। ছোট ফুপুর গায়ের রঙটা একটু ময়লা।সামনের দাঁতগুলো ঠোঁটের বাইরে বেরিয়ে আসে।আর একটু ছোটখাটো গড়নের মানুষ তিনি।আমার জন্মের পর থেকে ওনাকে বাড়িতে দেখেছি।

বিয়ে হয়েছিল।দাদাজান নাকি অনেক যৌতুকও দিয়েছিলেন। দুই কোলে ঝুমা আপা আর অনিক ভাইকে নিয়ে একদিন কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে চলে এলেন।এরপর ফুপাও কোন খোঁজ নেননি। বাবারাও মিলমিশের চেষ্টা করেননি।

আমাদের সেই বাড়িটা তিনতলা ছিল।নীচ তলায় রান্না খাবারের জায়গা।আর বসার ঘর।কোনার ঘরটায় তিতাস ভাই আর টনি ভাই থাকতে।সবচেয়ে বড় ঘরে।দুইজনেই বাড়ি ছোটদের মুখে চুনকালি মেখে ঢাকা মেডিক্যালে পড়তেন।সেই ছোট থেকে এই দুইজনের কারণে শুধু আমাদের পড়ালেখা করতে হতো!

আমি বা আমাদের চাচাতো-ফুপাতো কোন ভাই-বোন ক্লাসে ফার্স্ট-সেকেন্ড হওয়ার কথা গুনাক্ষরে চিন্তা করতাম না।কেনই বা করবো বলুন।এতো পড়ে কী হবে?

নিউটন তো আপেল পড়া নিয়ে মধ্যাকর্ষণ নিয়ে থিউরি লিখে বসে আছে।

কত কী আবিস্কার করছে বিজ্ঞানীরা!আমরা আর এতো পড়ে কী করবো।পরীক্ষার আগের রাতে পড়ে পাস করতে পারলে আমি খুশি।তবে বাপু সেই গোলাপি রঙ্গের রেজাল্ট কার্ডে লাল কালি দাগ চাই না।

আমাদের চাওয়া-পাওয়া সীমিত ছিল।খুশি ছিল অন্তহীন।বসন্তের শুরুতে আমের মুকুলের গন্ধে প্রাণ নেচে উঠলে দিনটা ভাল গেছে বলে ভাবতাম।

ক্লাসে হোমওয়াক না করে গেলে যখন দেখতাম টিচার ক্লাসে আজ আসেননি, সুখের তাপমাত্রা ব্যালেন্স হয়ে যেতো।জীবনটা রঙ্গিন ছিল।রংধনু সাত রঙ্গের মতো।

কিংবা স্কুলের সিনিয়র বেনজীর আপার দুই হুর টাইপ ভাইয়ের কোন একজন ছুটির সময় তাকে নিতে আসলে মনে হতো, আহ! এ সুখের নেই কোন সীমানা!

অথবা চাচীর হাতের পায়েসের গন্ধ স্কুল থেকে বাড়িতে ফেরার অন্তত দুই/ তিন বাড়ির আগেই যখন নাকে এসে জানান দিতো, আজ দুপুরে খাবারে যাই থাকুক গুড়ের পায়েস আছে, মনে হতো জীবন সরল রেখা ভালই যাচ্ছে কেটে।

আমাদের তিন চাচা আর ছোট ফুপু মিলিয়ে আমরা এগারো ভাই-বোন।পাড়ায় আমাদের সবাই চিনতো-ওরা এগারোজন নামে।ছোট-খাটো দাওয়াতে আমাদের বাড়ি সব সদস্যরা দাওয়াত পেতো না।

বিয়ে-শাদি হলে পড়ে আলাদা ব্যাপার, কিন্তু দাওয়াত-পানিতে  গেলে আমরা নির্বাচনের ভিত্তিতে দৌড়াতাম।আগেরবার যারা যাবে তারা বাসায় থাকবে।যেকোন দুই/তিন জন আপডেট ভার্সনে গ্রুপে চাচা-চাচি কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে যেতে পারবে।

সেইকালে আমাদের একটা পরিবার ছিল।আজকের যুগে এমন পরিবার হয়তো খুঁজে পাওয়া দায়।কিন্তু সেই যুগে আমরা একসঙ্গে থাকতাম।দোতলায় মাঝখানে চিকন করিডর ছিল।বাড়ির সামনে দিকে বারান্দা থাকায় ওদিকটার দুই ঘরের বাদিকে বড় চাচা-চাচি আর ডানের দিকে আমার বাবা-মা।ঠিক পাশেরটায় ছোট চাচা-চাচি।তার উল্টো পাশটায় সিঁড়ি পড়ে।

তার পাশেই আমাদের বোনদের দুই ঘর ।ছয় বোন আমরা দুই ঘরে কাটিয়ে দিয়েছি অধের্ক জীবন।

তিনতলায় দুটো ঘর ছিল।একটায় ছোট ফুপু আরেকটায় তিন ভাইয়েরা থাকতো বাকীটুকু ছাদ।

ভাবছেন বাড়ির বর্ণনা দেওয়া কি আছে?লাল ইট রঙ্গা মেঝের একটা হালকা আমেজ আছে।সেই দিনগুলোর কথায়, আমাদের বাড়িটাও যে বড় আপন।

আজকের জমানায় কারও সঙ্গে দু দন্ড কথা বলার জো নেই। সবাই বড় ব্যস্ত।কেউ মোবাইলে কথা বলা নিয়ে।কেউ বা ফেসবুকে ডিপি আপলোড করতে করতে পাশের ঘরে থাকা বুড়ো বাবা-মায়ের খবর নেওয়ার সময় কুলোতে পারে না।

সেই সময়টায় আমাদের জীবনে আনন্দ ছিল। ফেইসবুক মিনিটে মিনিটে চেক-ইন আপডেট দেওয়ার সুযোগ তো ছিল না।কিন্তু বেঁচে থাকাটা অর্থবহ ছিল।

সম্পর্ক তখন ভার্চুয়াল জীবনে নয়, আঙ্গিণার মানুষদের নিয়ে গড়ে উঠতো।

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

গুজবে কান দিয়ে রংপুরের যে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেই শহিদুন্নবী জুয়েল আদতে ধর্মভিরু... আরও পড়ুন

আদতে ধর্মভিরু মুসলিম।

নভেম্বরের শুরুতেই নয়া প্রেসিডেন্ট পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে আগাম ভোট শুরু হয়েছে চলতি মাসে। এরই... আরও পড়ুন

ডাকযোগে আগাম ভোট

হাজী সেলিমপুত্র ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বহিস্কৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ... আরও পড়ুন

মোহাম্মদ জাহিদের তিন

টানা দশ ঘণ্টা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বসে আলোচনার পর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির... আরও পড়ুন

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে

হঠাৎ করে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে উদ্বিগ্ন আমজনতা। চলছে আন্দোলনও। দাবি উঠছে সর্বোচ্চ শাস্তি... আরও পড়ুন

ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায়

প্রায় চার মাস বাদে পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান... আরও পড়ুন

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কাস পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একটি নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন করেছে... আরও পড়ুন

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পাঠানো একটি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ধ্বংস করেছে সৌদি এয়ার... আরও পড়ুন

বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ধ্বংস

করোনা আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্বাচনী বিতর্ক... আরও পড়ুন

নির্বাচনী বিতর্ক

পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের... আরও পড়ুন

ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশু

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।