চাইলেই তো আর দলে ফেরা যায় না::আশরাফুল

শুক্রবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৮ ০২:১৪:০১ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  

রিডার::নিয়ামত মওলা

পাঁচ বছর আগে দেশের ক্রিকেটকে জগতকে নিমিষেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা। আকসু প্রতিনিধিদের কাছে ২০১৩ বিপিএলে ম্যাচ পাতানো ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নেন আশরাফুল।

গত ১৩ আগস্ট শেষ হয়েছে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান গত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, নিজের উপলব্ধি আর ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে মুখোমুখি হলেন তিনি।

লন্ডনে খেলতে কেমন লাগছে?
আশরাফুল: ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ম্যাচ খেলছি। ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি। আগামী বিশ্বকাপ হবে এখানে। জাতীয় দলে খেলা নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেটা উঠে যাচ্ছে। প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা।কিন্তু চাইলে তো আর দলে ফেরা যায়না।

এখন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল থেকে আপনি পুরোপুরি মুক্ত — ভীষণ স্বস্তি দিচ্ছে বিষয়টা?
আশরাফুল: এই দিনটার জন্য গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। পুরোপুরি মুক্ত হব কবে, পুরোপুরি খেলায় ফিরতে পারব কবে, জাতীয় দলে নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত হব কবে- এমন ভাবনা কাজ করেছে অনেক দিন। অবশ্যই অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করছে। অবশ্য গত দুই বছর ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও লিস্ট ‘এ’ খেলছি। নিষেধাজ্ঞা ছিল জাতীয় দল ও বিপিএলে। দুটিই পুরোপুরি কেটে গেছে। খুবই ভালো লাগছে।

ব্যক্তিগত কিংবা খেলোযাড়ি জীবন-দুটিই কতটা কঠিন ছিল এই সাড়ে পাঁচ বছর?
আশরাফুল: শুধু আমার নয়, কঠিন সময় গেছে আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধ-সবারই। খেলাটা ভীষণ ভালোবাসি, ছোটবেলায় মাদারটেক থেকে ধানমন্ডি হেঁটে হেঁটে অনুশীলনে যেতাম। অনেক পরিশ্রম করে ক্রিকেটার হয়েছি। গত সাড়ে পাঁচ বছর নিষিদ্ধ ছিলাম কিন্তু বাংলাদেশের এমন কোনো ম্যাচ নেই, যেটা আমি দেখিনি। খেলতে পারিনি-একটা কঠিন সময় তো গেছেই। নিষেধাজ্ঞার শুরুতে বেশি কঠিন গেছে। এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছি।

নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে হতাশা থেকে কখনও ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার ভাবনা এসেছে?
আশরাফুল: নাহ! কখনই মনে হয়নি। ওই ঘটনা যখন ঘটেছে, তখন থেকে মনে হয়েছে, আমাকে আবার ফিরতে হবে। আবার দেশকে কিছু দিতে হবে। আমি একটি ভুল করেছি। সেটা স্বীকার করেছি। সততা থেকে যদি ফের কিছু করতে পরি, সেটাই হবে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। যখন স্বীকার করেছিলাম (স্পট ফিক্সিংয়ের কথা), ওই সময় ভেবেছি যদি আরেকটা সুযোগ পাই কিছু করে দেখাতে হবে। যেহেতু আমি ব্যাটসম্যান। এই সাড়ে পাঁচ বছরে কখনই মনে হয়নি যে ফিরতে পারব না। কিছুটা সৌভাগ্যবান, দেশে কিংবা দেশের বাইরে ভক্ত-সমর্থকরা প্রচুর সমর্থন জুগিয়েছেন আমাকে। আগে যখন খেলতাম, ভক্তসংখ্যা যদি ৫০ হয়, স্বীকার করার পর সেটি বেড়েছে অনেক। যারা ভক্ত ছিল না, তারাও এখন অপেক্ষা করছে-ফিরে এসে কেমন করি, সেটা দেখতে। আবার এটাও সত্য, অনেকে চান না আমি ফিরি।

তারা কেন চায় না, আপনি ফেরেন?

আশরাফুল: এমনই শুনেছি। সত্যি কথা বলেছি বলে তারা এত ঘৃণা করে! আর যারা স্বীকার করেনি, তারা তো ঠিকই দাপটের সঙ্গে আছে সব জায়গায়।

২০১৩ সালে আপনার স্বীকারোক্তিতে আরও অনেকের নাম এসেছিল, তাঁদের শাস্তি না হওয়াটা কীভাবে দেখেন?

আশরাফুল: এগুলো নিয়ে আমি ভাবি না। নিজের অংশটা নিয়েই ভাবি। যে অন্যায় করেছি, শাস্তি হয়েছে। সাজা শেষে যেহেতু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে, নতুন করে শুরু করতে চাই। অন্যদের কী হলো না হলো, সেটা নিয়ে ভাবতে চাই না।

নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে আপনার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি কী?
আশরাফুল: যে পরিবারে বড় হয়েছি, আমাদের মূল শিক্ষা হচ্ছে, যেটাই ঘটুক, সেটার ইতি ও নেতিবাচক দুটি জিনিসই চিন্তা করা। আমি একটু অন্য রকম। অনেকে মনে রাখে কে তার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে। আমি অবশ্য এত কিছু মনে রাখি না। অন্যায় করেছি, ক্ষমা চেয়েছি।

আপনি কি মনে করেন, আগের মতো আপনার ওপর আস্থা রাখতে পারবেন সতীর্থ, দল কিংবা টিম ম্যানেজমেন্ট?

আশরাফুল: সেটার জন্যই ফিরতে চাইছি। যদি ভালো ভালো ইনিংস উপহার দিতে পারি, তবে যে ভুলটা করেছি, সেটা মানুষ ক্ষমা করতে পারবে।

এত বড় ঘটনার পরও আপনাকে নিয়ে এখনও মানুষের বেশ আগ্রহ দেখা যায়। অমন একটা ঘটনার পরও এ জনপ্রিয়তা থাকর রহস্য কী?

আশরাফুল: যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করি, প্রায় প্রতিটি দলেই কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ি। বর্তমান সময়েও অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে। তবে ১০-১৫ বছর আগের ছবিটা যদি মনে করেন, প্রতিটি দলেই ক্ল্যাসিক খেলোয়াড় থাকত। ওই সব দলের বিপক্ষে তখন আমরা সেভাবে জিততে পারতাম না। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের পর টানা চার বছর কোনো ম্যাচই জিততে পরিনি। ২০০০ থেকে ২০০৮-০৯ পর্যন্ত বাংলাদেশের বেশির ভাগ জয়ে আমার অবদান ছিল। ২০০৪ সালে যে ম্যাচ দিয়ে জয়খড়া কাটল, সেটাতেও আমি দ্রুতগতিতে ফিফটি করেছিলাম। মানুষ হয়তো এসব ইনিংসের কথা মনে রেখেছে। আর সব সময়ই চেষ্টা থাকে ছোট-বড় সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে।

এই যে মানুুষ আপনাকে এত পছন্দ করে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে কখনও কি মনে হয়নি, তাদের সঙ্গে কেন এ প্রতারণা করলাম?
আশরাফুল: এটা মনে হয়নি। কেন হয়নি বলি, যে শাস্তিটা পেয়েছি, সব স্বীকার করেছি বলে। প্রতারণার মতো কিছু করিনি। কখনও দলকে হারিয়ে দিইনি। যদি এসব করতাম, তাহলে বলা যেত প্রতারণা করেছি। হ্যাঁ, অন্যায় যে করেছি, সেটি স্বীকার করেই নিয়েছি। তবে ওই অন্যায় করিনি যে.. হ্যাঁ, অনেকে আমাকে ঘৃণা করে। সবাই তো আর ভালোবাসবে না। কেউ কেউ ঘৃণা করবে। তবে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, দেশের সঙ্গে কখনও প্রতারণা করিনি। দলকে হারিয়ে দিয়েছি, এমন কিছু কখনও করিনি।

পাঁচ বছর আগে আপনি যে দলটি দেখে গিয়েছেন, সেটির সঙ্গে বর্তমান দলের নিশ্চয়ই পার্থক্য আছে। আপনি কি মনে করেন, এই দলে জায়গা পাওয়ার সামর্থ্য আপনার আছে?

আশরাফুল: বাংলাদেশ দল এখন যে আক্রমণাত্মক বা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে, ক্যারিয়ারের শুরুতে এভাবেই খেলেছি। ১৮ বছর আগেই যদি ইতিবাচক ক্রিকেট খেলি, এখন আমার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। আমি বিশ্বাস করি, এই দলে জায়গা করে নিতে পারব, যদি আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়। এখন যদি কেউ ভাবে আমাকে নেবেই না, তাহলে তো সুযোগ পাওয়ার প্রশ্নই নেই। গত মৌসুমেও লিস্ট ‘এ’তে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছি। বাংলাদেশ দল অনেক ভালো খেলছে। কিন্তু ধারাবাহিক ভালো খেলছে কারা? পাঁচ সিনিয়র খেলোয়ার। জুনিয়ররাও ভালো খেলোয়ার। তবে আমি মনে করি, অভিজ্ঞতা দিয়ে দলে জায়গা করে নেওয়ার সামথ্য আমার আছে।

এখন মুমিনুল হকের মতো ব্যাটসম্যানই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সুযোগ পাচ্ছে না। তাহলে জাতীয় দলের কোথায় নিজেকে দেখছেন?

আশরাফুল:  কে সুযোগ পাচ্ছে, কে পাচ্ছে না, সেটা আমার ভাবনার বিষয় নয়। সবকিছুই নির্ভর করছে পারফরম্যান্সের ওপর। এটিই সব ঠিক করে দেবে।

আপনার ফিটনেস প্রসঙ্গটাও এসেছে।
আশরাফুল: আমার স্ট্রইকরেটটা ৯০ থাকলে ভালো হতো। উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে এই ১৫-১৬ ব্যবধান কমিয়ে ফেলতে পারব আশা করি। ধারাবাহিক ভালো খেললে একটা সুযোগ তো আসতেই পারে।

২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার কথা বলছিলেন, প্রায় ছয় বছর বাইরে থেকে এত দ্রুত জাতীয় দলে ফেরা আসলেই সম্ভব?
আশরাফুল: কেন নয়? আরও ১১ মাস আছে। অক্টোবর থেকে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মৌসুম শুরু। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যদি ভালো খেলি, জানুয়ারিতে বিপিএলে ভালো খেলি, কেন সম্ভব নয়? সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ মধ্যে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কার জায়গাটা পাকা? বাকিরাও ভালো। তবে তরুণদের কারও জায়গা পোক্ত নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেললে অবশ্যই সুযোগ থাকবে।

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

গুজবে কান দিয়ে রংপুরের যে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেই শহিদুন্নবী জুয়েল আদতে ধর্মভিরু... আরও পড়ুন

আদতে ধর্মভিরু মুসলিম।

নভেম্বরের শুরুতেই নয়া প্রেসিডেন্ট পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে আগাম ভোট শুরু হয়েছে চলতি মাসে। এরই... আরও পড়ুন

ডাকযোগে আগাম ভোট

হাজী সেলিমপুত্র ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বহিস্কৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ... আরও পড়ুন

মোহাম্মদ জাহিদের তিন

টানা দশ ঘণ্টা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বসে আলোচনার পর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির... আরও পড়ুন

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে

হঠাৎ করে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে উদ্বিগ্ন আমজনতা। চলছে আন্দোলনও। দাবি উঠছে সর্বোচ্চ শাস্তি... আরও পড়ুন

ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায়

প্রায় চার মাস বাদে পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান... আরও পড়ুন

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কাস পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একটি নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন করেছে... আরও পড়ুন

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পাঠানো একটি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ধ্বংস করেছে সৌদি এয়ার... আরও পড়ুন

বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ধ্বংস

করোনা আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্বাচনী বিতর্ক... আরও পড়ুন

নির্বাচনী বিতর্ক

পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের... আরও পড়ুন

ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশু

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।