খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে ট্রাস্টের অর্থ পরিবারকে দিয়ে দেন::আদালত

রিডার::মুআবদিল ফাহাদ

সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০৮:০১:২৫ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
বেগম খালেদা জিয়ার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজার ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলেছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বেআইনিভাবে তিনি তার দুই পুত্র ও একজন আত্মীয়ের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন। এই অর্থ ছিলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ।

রাষ্ট্রীয়ভাবে এতিমদের কল্যাণে সেই অর্থ ব্যয় করার কথা। কিন্তু তা করা হয়নি। ওই টাকা হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া কোন প্রকার নীতিমালারও আশ্রয় নেননি। যা ক্ষমতা অপব্যবহারেরই নামান্তর। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এই পর্যবেক্ষণ দেন।

রায়ে বলা হয়, খালেদা জিয়া ওই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কাজী সালিমুল হক ওরফে কাজী কামাল ছিলেন সংসদ সদস্য। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী সরকারি কর্মকর্তা হয়ে খালেদা জিয়াকে সরকারি এতিম তহবিলের ব্যাংক হিসাব খুলতে সহায়তা করেন।

পরবর্তীকালে ওই হিসাব থেকে দুটি প্রাইভেট ট্রাস্টের অনুকূলে সরকারি অর্থের চেক বেআইনিভাবে প্রদান করে দু’জন আসামিকে অপরাধ করতে সহায়তা করেন। আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদ কৌশল অবলম্বন করে সরকারি এতিম তহবিলের টাকা একে অপরের সহযোগিতায় আত্মসাত করতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।

এর মাধ্যমে মামলার সকল আসামির প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে লাভবান হয়েছেন। এর ফলে তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। আর অর্থনৈতিক দুর্নীতি রাষ্ট্রের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে ব্যহত করে। যার খারাপ প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে সংক্রমিত হয়।

সোমবার ৬৩২ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। রায়টি প্রকাশের পরই এর সত্যায়িত অনুলিপি (১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠা) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে গ্রহণ করেন।

অনুলিপি গ্রহণের পরই খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলীর ধানমন্ডির চেম্বারে বৈঠকে বসেন অন্যান্য আইনজীবীরা।

সেখানে রাতে রায়টি পর্যালোচনা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেল। আজ মঙ্গলবার সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন খালেদা জিয়া। অপরদিকে দুদকের আইনজীবীরাও রায়টি পর্যালোচনা করছেন। রায় পর্যালোচনা শেষে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন কিনা?

রায়ে আদালত বলেন, ঘটনাপুঞ্জ প্রমাণ করে যে, উক্ত এতিম তহবিলের টাকার ওপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এনট্রাস্টমেন্ট (বিশ্বাস স্থাপন) ছিল এবং যেভাবে ওই টাকা ব্যয় করা উচিত্ ছিল তিনি তা না করে নিজেই ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে অথবা অন্য আসামিদের লাভবান বা ওই টাকা আত্মসাত্ করতে সহায়তা করে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।

সাময়িকভাবে তহবিল তছরূপ সবসময় প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য দ্বারা রাষ্ট্রপক্ষকে প্রমাণের দরকার নেই। এটি পরিবেশ পরিস্থিতির উপর অনেকখানি নির্ভর করে। মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত মনে করে যে, দন্ডবিধির ৪০৫ ধারার উপাদানসমূহ এই মামলায় বিদ্যমান রয়েছে।

ওই ধারার উপাদান প্রমাণিত হলে একই আইনের ৪০৯ ধারার বিধান মোতাবেক শাস্তি দেয়ার সুযোগ রয়েছে।

আদালত বলেন, দন্ডবিধির ৪০৯ ধারার বিধান পর্যালোচনায় লক্ষ্য করা যায় যে, এই ধারায় কোন ব্যাক্তিকে অভিযুক্ত করতে হলে তাকে সরকারি কর্মচারি, ব্যাংকার, মার্চেন্ট, এজেন্ট হতে হয়। পূর্বেই লক্ষ করা গেছে যে, এই মামলার আসামি বেগম খালেদা জিয়া এবং কাজী সালিমুল হক কামাল ঘটনার সময় জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন।

জাতীয় সংসদ সদস্যগণ বিদ্যমান আইন অনুসারে সরকারি কর্মচারি হিসেবে গণ্য হন। এছাড়া আসামি তারেক রহমান এবং মমিনুর রহমান প্রাইভেট ট্রাস্টে ট্রাস্টি হলেও সুপ্রিম কের্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুসারে ট্রাস্টিগণ সরকারি কর্মচারি হিসেবে গণ্য হন। আসামি শরফুদ্দিন আহমেদ মার্চেন্ট বা এজেন্ট হিসেবে গণ্য হন।

ফলে তাদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪০৯ ধারার বিধান প্রয়োগযোগ্য। আদালত বলেন, নথি পর্যালোচনায় এটা প্রতীয়মান হয় যে, এই মামলার আসামিগণ পরস্পর যোগসাজশে সরকারি এতিম তহবিলের ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাত করেছেন।

পরিমাণের দিক থেকে এর বর্তমান বাজারমূল্য অধিক না হলেও সংঘটিত ঘটনার সময়ে ওই টাকার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। রায়ে বলা হয়, প্রতিষ্ঠিত আইন এই যে সরকারি অর্থ অনির্ধারিত সময় ধরে খরচ না করে আটক রাখা দন্ডবিধির এই ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

রায়ে বলা হয়, খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য প্রদানের সময় নিজ জবানিতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ফলে দন্ডবিধির ৪০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাকে শাস্তি দিতে কোন বাধা নেই। কারণ তিনি উক্ত এতিম তহবিলের জিম্মাদার ছিলেন।

ওই অর্থের ওপর তার আধিপত্য ছিল তিনি ওই সম্পত্তির কাস্টডিয়ান ছিলেন। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে ৫(২) ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলেও জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের ২৬ ধারার বিধান বিবেচনায় নিয়ে ৪০৯ ধারায় দন্ডিত করা হলো।

রায়ে বলা হয়, সরকারি এতিম তহবিলের টাকা বিধি মোতাবেক এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত ছিল। খালেদা জিয়া এর ব্যতয় ঘটিয়ে নাম সর্বস্ব জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা হস্তান্তর করেন। এটা একটি অ-রেজিস্ট্রিকৃত ট্রাস্ট।

যা সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত ট্রাস্ট নয়। এছাড়া এই নামে আজ অবধি কোন এতিমখানার অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। সেখানে কোন এতিম বসবাস করে না। এতিমখানার কোন দালান-কোঠা বা স্থাপনা নেই।

আদালত বলেন, আসামি সালিমুল হকের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে বোঝা যায়, ৫টি চেকের সিগনেটরির নির্দেশ অনুযায়ী এফডিআরগুলো করা হয়। সবগুলো এফডিআর তিনি তারেক রহমানের অফিসে পৌছে দেন।

আর ৫টি চেকের সিগনেটরি ছিলেন এই দুই আসামি। পরে কাজী সালিমুলের হাত হয়ে এতিম তহবিলের টাকা তারেকের হাতে যায়। ফলে সরকারি টাকা আত্মসাতের দায় তারা এড়াতে পারেন না।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। একই মামলায় তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচজনকে দশ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয় আদালত।

তাদেরকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকার অর্থদন্ড দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়, এই দন্ডের টাকা প্রত্যেক আসামিকে সম অংকে প্রদান করতে হবে। আরোপিত অর্থ দন্ডের টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত বলে গণ্য হবে।

৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে এই টাকা আদায় করার নির্দেশ দেয়া হলো। রায়ে বলা হয়, খালেদা জিয়া একটি রাজনৈতিক দলের কর্ণধার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। তিনি একজন বয়ষ্কা নারী। তার শারীরিক অবস্থা, বয়স ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে ওই পরিমাণ সাজা দেওয়া হলো।

রায়ে বলা হয়, সাক্ষ্য পর্যালোচনায় দেখতে পাওয়া যায় যে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামে ৬, শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস এর ঠিকানায় ট্রাস্ট গঠন করা হলেও এটা ছিলো মূলত তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাসভবন।

এটা সরকারি বাসভবন না হলেও তিনি তার মেয়াদের পুরো সময় ওই বাসায় বসবাস করতেন এবং সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা ওই বাসার অনুকূলে গ্রহণ করেছেন। এ থেকে ধরে নেয়া যায় যে এটা প্রকারান্তরে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনই ছিলো।

কিন্তু তা সত্ত্বেও উক্ত বাসভবনটি বেআইনিভাবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামে ব্যবহার করা হয়।

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

গুজবে কান দিয়ে রংপুরের যে যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেই শহিদুন্নবী জুয়েল আদতে ধর্মভিরু... আরও পড়ুন

আদতে ধর্মভিরু মুসলিম।

নভেম্বরের শুরুতেই নয়া প্রেসিডেন্ট পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে আগাম ভোট শুরু হয়েছে চলতি মাসে। এরই... আরও পড়ুন

ডাকযোগে আগাম ভোট

হাজী সেলিমপুত্র ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বহিস্কৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ... আরও পড়ুন

মোহাম্মদ জাহিদের তিন

টানা দশ ঘণ্টা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বসে আলোচনার পর আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির... আরও পড়ুন

যুদ্ধবিরতির বিষয়ে

হঠাৎ করে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমগুলোতে উদ্বিগ্ন আমজনতা। চলছে আন্দোলনও। দাবি উঠছে সর্বোচ্চ শাস্তি... আরও পড়ুন

ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ায়

প্রায় চার মাস বাদে পদ্মা সেতুর ৩২তম স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান... আরও পড়ুন

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কাস পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একটি নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন করেছে... আরও পড়ুন

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পাঠানো একটি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ধ্বংস করেছে সৌদি এয়ার... আরও পড়ুন

বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ধ্বংস

করোনা আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্বাচনী বিতর্ক... আরও পড়ুন

নির্বাচনী বিতর্ক

পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের... আরও পড়ুন

ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশু

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।