কভিড পরবর্তী মানসিক চাপ সামলাতে যা করবেন

রিডার:: ডা. আখমল আহমেদ ইউসুফ

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০ ০২:২২:৪৮ অপরাহ্ন
  •  
  •  
  •  
  •  
রোগ-পরবর্তী মানসিক

জীবনে চলার পথে বড় দুর্ঘটনা অনেকে সহজে গ্রহণ করতে পারেন না। পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেসে বা রোগ-পরবর্তী মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন তারা। সেটি বিবাহ বিচ্ছেদ হোক বা ভূমিকম্প কিংবা ধর্ষণ, মহামারি, যুদ্ধ বা বড় কোনও দুর্ঘটনা, আতঙ্কের স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে তাদের কোমল হৃদয়ে।

ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলে। রাতের পর রাত ঘুমোতে পারেন না। দুঃস্বপ্ন দেখেন। মনে হয়, জীবন শেষ হয়ে গেছে, আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। কেউ কেউ আবার স্বপ্নও দেখেন না।

যারা প্রচন্ড মানসিক শক্তিবলে নিজে থেকে বা কারও সহায়তায় বা মানসিক চিকিৎসায় মাসখানেকের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন, তাদের তো বালা টেলেই গেলো। যারা পারেন না, তারা হয় নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সুযোগ খোঁজেন, নয়তো অর্ধোন্মাদ হয়ে জীবন কাটাতে থাকেন।

দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস পুরোদস্তুর ডিজঅর্ডারে পরিণত হয়। যার নাম ‘পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসর্ডার’ বা পিটিএসডি।কভিড-১৯ জাঁকিয়ে বসার পরই শুরু হয়েছে এই ব্যাপার। সারা পৃথিবী জুড়েই।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চীনের উহানে সাধারণ অবস্থায় যেখানে এক শতাংশ মানুষের পিটিএসডি ছিল, কভিডের পর তা বেড়ে হয়েছে ৭ শতাংশ। যেখানে জটিল ধরনের কভিডের প্রকোপ বেশি ছিল, পিটিএসডি-ও সেখানে আরও বেশি। প্রায় ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।যেখানে রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল, সেখানে হয়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ মানুষের। এই তালিকায় শুধু যে রোগীরা রয়েছেন এমন নয়। যাদের রোগ এখনও হয়নি, কিন্তু রোগের আতঙ্কে প্রহর গুনছেন, তারা আছেন।

বাদ যাননি স্বাস্থ্য কর্মীরাও। যদিও তাদের মানসিক চাপের মাত্রা অন্য যে কারও থেকে অনেক বেশি। প্রবল চাপের মুখে দিনরাত রোগী ঘাঁটতে ঘাঁটতে, তারাও এক সময় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে জানা গেছে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ পিটিএসডি-তে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কারণটা কী?

হঠাৎ আতঙ্কের ধকল সামলানোর ক্ষমতা সবার সমান থাকে না। কেউ বড় সমস্যাও সহজে সামলাতে পারেন, কেউ ভেঙে পড়েন ছোট আঘাতেই। সেই জন্যই দেখা যায় উদ্বেগপ্রবণ মানুষের সমস্যা বেশি হয়।

এ ছাড়া সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা মেজর ডিপ্রেশনের রোগী, যারা একাকিত্বে ভোগেন, নিউরোটিক পার্সোনালিটি অর্থাৎএকটুতেই যাদের রাগ-দুঃখ-হতাশা-উদ্বেগ-অপরাধবোধ বা ভয় মাত্রা ছাড়ায়, নেশাগ্রস্থ, অনিদ্রায় ভোগেন, আইকিউ কম, তাদের বিপদটাও বেশি।

নারীরা এক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে আছে। একাধিক বড় দুর্ঘটনা এক সঙ্গে ঘটলে তাদের সমস্যা বাড়ে।

সমস্যা বাড়ে তাদের, যারা ছোটবেলা থেকে কোনও দুর্ঘটনার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। আবার যারা সমস্যা সমাধান করার চেয়ে এড়িয়ে যাওয়া বেশি পছন্দ করেন বা কারও সাহায্য ছাড়াই সব কিছু সামলে ফেলতে পারবেন বলে ভাবেন, তাঁদেরও অনেক সময় বিপদ হয়।

যাদের পরিবার ও বন্ধু সহৃদয়, মনের কথা খুলে বলতে পারেন, বিপদের মোকাবিলা করার সাহস আছে, সব কিছুর ভাল দিক দেখেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন, আধ্যাত্মিক চেতনা আছে, তাদের সমস্যা কম হয়।

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, জটিল কভিড রোগীদের বিপদ বেশি হয়। এর মূলে কিছুটা হাত আছে ভাইরাসের, কিছুটা প্রাণান্তকর চিকিৎসার। ভাইরাস অনেক সময় ব্রেনেও ছড়ায়।

ফলে মুড সুইং, দোটানা, অবুঝপনা ও চিন্তাভাবনার অসঙ্গতি বেশ কিছুদিন থেকে যায় অনেকের। কারও হয় অবসাদ। রোগ যত জটিল হয়, পাল্লা দিয়ে বিপদ বাড়ে।

মার্কিন এক গবেষণা থেকে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি কভিড রোগীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের আইসিইউ কেয়ার লাগে। তার মধ্যে যতজন বাঁচেন, তাদের প্রায় ৯৬ শতাংশের পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেসের উপসর্গ হয়। এর কারণ, রোগ ও চিকিৎসার প্রবল কষ্ট।

জটিল রোগীদের আইসিইউ-তে যেভাবে চিকিৎসা করা হয়, নাকে-গলায় নল ঢোকানো, ভেন্টিলেটরের সঙ্গে যুক্ত করা ইত্যাদি, তার কষ্ট অমানুষিক। কষ্ট কমাতে কখনো বেশি করে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়।

এতেও আবার পিটিএসডি-র আশঙ্কা বাড়ে। তবে শুধু কোভিডের ক্ষেত্রে নয়, যে কোনও জটিল আইসিইউ রোগীর ক্ষেত্রেই এ কথা সত্যি। আইসিইউ-তে বেশ কিছুদিন কাটানোর পর অনেক রোগীরই পুরোদস্তুর ডিজঅর্ডার না হলেও পোস্টট্রমাটিক স্ট্রেসের উপসর্গ দেখা দেয়।সামাজিক কারণও জড়িত।

কোভিড রোগীরা খুব একা হয়ে যান। সংক্রমণের ভয়ে কেউ তাঁদের ধারেকাছে ঘেঁষেন না। ফলে রোগের প্রকোপে শরীরে-মনে বিধ্বস্ত রোগীর যে ভালোবাসা ও সেবার দরকার হয়, তা সেভাবে পান না তাঁরা। একটু সেরে ওঠার পর তার সঙ্গে যোগ হয় জীবন-জীবিকার চরম অনিশ্চয়তা, সামাজিকভাবে একঘরে হওয়ার ভয়। প্রবল হেনস্থা।

বিজ্ঞানীদের মতে, এসবের কারণেই সার্স, মার্স, ইবোলা ইত্যাদির মহামারির সময় যত জন পিটিএসডি-তে আক্রান্ত হয়েছিলেন, কভিডে হচ্ছেন বা হবেন তার চেয়ে আরও অনেক বেশি মানুষ।সমাধান

তাই কোভিডের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। কারণ রোগ একবার হলে, তা সে যত মৃদুই হোক-না কেন, এত রকম ধকল সামলাতে হবে যা দুর্বল মনের মানুষের জন্য এক বিরাট চাপের ব্যাপার।

পিটিএসডি-র রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে আগে থেকে সতর্ক থাকুন। সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ কিন্তু নিজে থেকে সারবে না। ফেলে রাখলে পরিস্থিতি জটিল হবে দিনে দিনে।

মনোচিকিৎসকের পরামর্শ নিলে, তিনি কখনোও থেরাপি করবেন, কখনোও ওষুধ দেবেন, কখনও আবার দুটোরও প্রয়োজন হতে পারে।

থেরাপির মধ্যে প্রধান হল কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি। পরিস্থিতিকে যেভাবে দেখার ফলে মানুষটির মনে ভয় ঢুকেছে, তাকে কাটাছেঁড়া করে থেরাপিস্ট ভুলগুলোকে চিহ্ণিত করেন। ও কীভাবে সেই সব ভাবনাকে শুধরে বাস্তবমুখী চিন্তা করতে হবে তা শেখান ধাপে ধাপে।

প্রয়োজন হলে ১২ সপ্তাহ ধরে করা হয় কগনিটিভ প্রসেসিং থেরাপি। সপ্তাহে এক-দেড় ঘণ্টার সেশন। প্রথমে রোগীকে পুরো ঘটনা, মনের ভাব, ভয়ের কারণ খুলে বলতে বলা হয়। তারপর বলা হয় লিখতে। এই লেখার পর্বেই থেরাপিস্টের সাহায্যে রোগী ধীরে ধীরে বুঝে যান, তাঁর সমস্যা কোথায় ও কীভাবে তাঁকে চলতে হবে।

কারও ক্ষেত্রে করা হয় আই মুভমেন্ট ডিসেন্সিটাইজেশন অ্যান্ড রিপ্রসেসিং থেরাপি। সপ্তাহে একদিন করে তিন মাস। এতে থেরাপিস্টের হাত নাড়ানো, লাইট জ্বালানো বা কোনও বিশেষ আওয়াজের দিকে মন দিতে বলা হয় রোগীকে। কষ্টের বিষয় থেকে মন ঘুরিয়ে অন্যদিকে এনে ফেলাই এই থেরাপির উদ্দেশ্য।

স্ট্রেস ইনকুলেটিং ট্রেনিংয়ে মাসাজ, ব্রিদিং ও অন্য রিল্যাক্সেশন এক্সারসাইজের সাহায্যে কী ভাবে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা শেখানো হয়।

এসবে কাজ না হলে দেওয়া হয় ওষুধ। কখনও প্রথম দিকেও দিতে হয়। সঙ্গে দরকার হয় বাড়ির লোকের সহযোগিতা। সবে মিলে ধীরে ধীরে রোগী স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন।

এই মুহুর্তে পড়া হচ্ছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের মধ্যে প্রচারনা চলছে। একে অপরকে যুক্তি... আরও পড়ুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ছাত্রী।... আরও পড়ুন

সাবেক ভিপি নুরুল হক

যুক্তরাষ্ট্র যে নিজের খেয়াল খুশি মতো অন্য দেশগুলোর উপর নিজেদের আকাঙ্খা চাপিয়ে দেওয়ার নামে ‘নিষেধাজ্ঞা’... আরও পড়ুন

‘নিষেধাজ্ঞা’ নিয়ম জারি

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণে জন্য প্রথম থেকে ফ্রান্সের দিকে আঙ্গুল তুলছিল যুক্তরাষ্ট্র। বলা হচ্ছিল,... আরও পড়ুন

ফ্রান্সের দিকে আঙ্গুল

নাটকের নাম ‘বাবু খাইছো?’ আর এক নাটকে ইউটিউব দেশের ট্রেন্ডিং লিস্টে সেরার জায়গা করে নিয়েছে।... আরও পড়ুন

‘বাবু খাইছো’

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন নীতিতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলাহ আজিজ আল সৌদ এবং তাঁর... আরও পড়ুন

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন নীতিতে সৌদি

চীনাদের গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের রাজধানী দিল্লীর এক স্থানীয় সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত... আরও পড়ুন

চীনাদের গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে

ভারতের মুম্বাই শহরে ভিবান্ডি এলাকায় তিনতলা ভবন ধসে পড়ে অন্তত শিশুসহ দশজন নিহত হয়েছেন। ভবনটিতে... আরও পড়ুন

ভিবান্ডি এলাকায় তিনতলা

স্ত্রীর গর্ভে ছেলে না মেয়ে সন্তান তা নিশ্চিত হতে সাত মাসের অন্ত্বঃসত্তা স্ত্রীর পেট কেটে... আরও পড়ুন

স্ত্রীর গর্ভে ছেলে না মেয়ে সন্তান

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে হত্যার চেষ্টা ঘটনায় গ্রেপ্তার রবিউল... আরও পড়ুন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী

  সাম্প্রতিক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সামনে আরও ভয়ানক দিন অপেক্ষা করছে:ডব্লিউএইচও

করোনাভাইরাস মহামারীতে গোটা বিশ্বের মৃতের সংখ্যা পৌনে দু’লাখে ছাড়িয়ে গেছে। কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ।অগণিত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। যদিও সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছে।এই বিপর্যয়ের মাত্রা ফিরে আসতে এখনও বাকি বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে... আরও পড়ুন

রোগীদের ১১০ জন মারা

আরও ৯জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৪৩৪জন

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।এই নিয়ে কভিড-১০ রোগীদের ১১০ জন মারা গেল। আক্রান্ত হয়েছে ৪৩৪জন।আজ মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৩৮২জন। আজ দুপুরে রাজধানী মহাখালীর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের... আরও পড়ুন

বেকায়দা রাজনীতি থেকে

ট্রাম্প, করোনা রাজনীতিকেও কোয়ারেন্টিনে রাখুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বলেছেন—করোনাভাইরাস নিয়ে বেকায়দা রাজনীতি থেকে সরে এসে ঐক্যের পথে আসুন।করোনার বিরুদ্ধে সবাই মিলে লড়াই করতে হবে।নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ক্ষতি ছাড়া ভাল কিছু বেরিয়ে আসবে না। একইসঙ্গে সংস্থারটির প্রধান... আরও পড়ুন

মানুষের সেবা করার

করোনায় হাসপাতাল, ক্লিনিক বন্ধ রাখলে ব্যবস্থা

হাসপাতাল, ক্লিনিক ও প্রাইভেট চেম্বারের চিকিৎসক ও নার্সদের দেশের সংকটময় সময় অসুস্থ মানুষের পাশে থাকুন।এটাই সময়, মানুষের সেবা করার আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ শুক্রবার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস মিলনায়নে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন কথা বলেন। মন্ত্রী... আরও পড়ুন