ইরানে সরকারপন্থী সমাবেশে রাজপথে লাখো মানুষের ঢল

বাংলা রিডার ডেস্ক
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভের পর এবার ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারের সমর্থনে রাজপথে নেমেছে লাখো মানুষ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে আয়াতুল্লাহ খামেনীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে ব্যাপক জনসমাগমের চিত্র দেখা গেছে।

কেরমান, জাহেদানসহ একাধিক শহরের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ছবি, পবিত্র কোরআন ও জাতীয় পতাকা দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, কেরমানের মিছিলে অংশ নেওয়া জনতা ‘আমেরিকার পতন’ কামনা করে স্লোগান দেয়।

সরকারি সংস্থাগুলোর আহ্বানে সোমবার দেশজুড়ে এসব সরকারপন্থী মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা ইস্যুতে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিরজান্দে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির ফুটেজে জনতাকে ‘আমাদের জাতি জেগে উঠেছে’ এবং ‘আমরা দাঙ্গাবাজদের ঘৃণা করি’—এ ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ফার্স বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, মধ্য ইরানের শহর আরাকে এক বক্তা বলেন, জনগণের সমস্যা থাকলেও তারা বিদেশি শক্তির হাতে নিজেদের ভবিষ্যৎ তুলে দেয় না এবং আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রভাব প্রত্যাখ্যান করে।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দাবি তেহরানের

এদিকে ইরান সরকার দাবি করেছে, বিদেশি মদদপুষ্ট সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। এ কারণে শিগগিরই ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, বিক্ষোভ দমনের পর বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির উদ্দেশ্যেই বিক্ষোভগুলোকে সহিংস ও রক্তক্ষয়ী রূপ দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর পদক্ষেপের জবাবে ওয়াশিংটন ‘কঠোর বিকল্প’ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সামরিক বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তিনি আরও জানান, সামরিক হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে এবং একটি বৈঠকের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে বৈঠকের আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You