চাঁদপুরে আলুর ফলন ভালো হলেও লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

বাংলা রিডার ডেস্ক
গত কয়েক মৌসুমে ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামে খুশি ছিলেন আলুচাষিরা। সেই ধারাবাহিকতায় বেশি লাভের আশায় এবার ধারদেনা ও ঋণ করে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক আকারে আলু চাষ করেছেন। তবে মৌসুমের শুরুতে কেজি প্রতি ১২০–১৩০ টাকা দাম পেলেও বর্তমানে আলুর দাম নেমে ১৪–১৫ টাকায় আসায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমে আলুতে লাভ হওয়ায় এ বছর আবাদ বেড়েছে। কিন্তু সার, কীটনাশক ও বীজের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর প্রতি বিঘায় খরচ ছিল ৩০–৪০ হাজার টাকা, যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০–৬৫ হাজার টাকায়।

আলুচাষি মোহর আলী বলেন, গত বছর আলুর বীজের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৪০–৪৫ টাকা। এ বছর তা বেড়ে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং প্রতি বিঘায় ২০–৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। এ মৌসুমে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা ও সর্বনিম্ন ১২ টাকায় আলু বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরেক চাষি জায়েদ আলী জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে গ্র্যানুলা জাতের আলু চাষ করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। জমি থেকে ১৩০–১৩৫ মণ আলু পেলেও বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকায়। এতে তার প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, ফলন ভালো হওয়ায় কিছুটা দাম পাওয়া গেছে, না হলে ক্ষতি আরও বেশি হতো।

কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, লাভের আশায় ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ বলেন, এ উপজেলায় অন্য এলাকার তুলনায় আলুর উৎপাদন বেশি হয়। চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১,৮২৫ হেক্টর, কিন্তু আবাদ হয়েছে ১,৮৬৯ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে আলু তোলার কাজ শুরু হয়েছে এবং ঝড়-বৃষ্টি শুরুর আগেই আলু উত্তোলনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

Recommended For You